
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার দাবি উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নিহতদের পরিবার ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা এ দাবি করেছেন। এ ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এখন পর্যন্ত একজনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফলে নিহতের সংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এমপির কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নিহত দুজন হলেন—পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজ উদ্দীনের ছেলে আসাদুজ্জামান (৩৩) এবং উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম (৩২)। গুলিতে আহত ব্যক্তি একই গ্রামের মুনষা নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় ১১ নম্বর বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত এলাকার মানুষের কাছ থেকে তারা দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছেন। ভারতের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দুজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি জানান। বিষয়টি বিজিবিকেও অবহিত করা হয়েছে। এদিকে, শনিবার রাতে ৪২ বিজিবির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একজনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নিহত ব্যক্তিকে আসাদুল হক হিসেবে উল্লেখ করে বিজিবি দাবি করে, তিনি চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি এবং মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পীরগঞ্জ সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের একটি দলের ওপর বিএসএফের চকশিবানন্দ ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি চালান। এতে আসাদুল হক আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ভারতের রায়গঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এর সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন। তাদের দাবি, শনিবার ভোরে সীমান্ত পিলার ৩৩৩ এলাকার ভারতের অভ্যন্তরে ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে ভারতেই রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ৪২ বিজিবির সিইও আবদুল্লাহ আল মঈন একজনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবিকে বিষয়টি জানানো হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি এবং বিজিবির দেওয়া তথ্যের মধ্যে নিহতের সংখ্যা ও ঘটনার সময়-পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নতা থাকায় সীমান্ত এলাকায় এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিএসএফের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।