গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। শুক্রবার (৩ মে) সকাল পৌণে ১১ টায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুবৃত কুমার বালা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (০২ মে) বিকেলে জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছে। অনেকগুলো মামলা থাকায় তা যাচাই বাছাই করা হয়েছে। যাচাই শেষ করতে সময় লেগে যায় এবং গোয়েন্দাদের প্রতিবেদন না পাওয়ায় তাকে রাতে মুক্তি দেওয়া হয়নি। গত ৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় করা ধর্ষণ মামলায় জামিন পান মামুনুল হক। নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালত এ জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিকে, তার মুক্তির খবরে বৃহস্পতিবার (০২ মে) সন্ধ্যার পর থেকেই কারাগারের সামনে হেফাজত, খেলাফত মজলিস, শায়খুল হাদিস পরিষদের শত শত নেতাকর্মীরা গিয়েছিলেন। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে প্রশাসন রাতে মামুনুল হককে মুক্তি দেয়নি। কাল রাত থেকে মাওলানা মামুনুল হকের বড় ভাই মাওলানা মাহফুজুল হকও কারা ফটকের সামনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। খবর পেয়ে হেফাজতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা রিসোর্টে গিয়ে ভাংচুর চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করেন মামুনুল হক।
১৫ দিন পর ১৮ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা থেকে মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলা করেন তার সঙ্গে রিসোর্টে অবরুদ্ধ হওয়া নারী। যদিও ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক। এরপর ওই মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ অর্ধশতাধিক মামলা হয়। পরে সেসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর মুভমেন্টে কেন্দ্র করেও মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।











