
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি : বুধবার গভীর রাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার উত্তর চাঁদশী গ্রামের একটি দীঘি থেকে মোঃ মনিরুজ্জামান সরদার নামের এক লীজ গ্রহিতা মাছ চাষির প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে দীঘির মালিকের প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দিতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রকার আইনী সহয়তা পাচ্ছেন না ওই মাছ চাঁষী।

ভূক্তভোগী মাছ চাষী উপজেলার গোবর্দ্ধন গ্রামের মৃত হাসেম সরদারের ছেলে মোঃ মনিরুজ্জামান সরদার অভিযোগ করেন, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার চাঁদশী গ্রামের মোঃ মাসুম সরদার, উত্তর চাঁদশী গ্রামের লিমন সরদার, লিটন সরদার, গোবর্দ্ধন গ্রামের বাচ্চু সরদার, ফারুক সরদার, জহুর সরদার, নুরু সরদার মিলে তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহয়তায় আমার লীজকৃত দীঘি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ ধরে লুট করে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে আমি গৌরনদী মডেল থানায় মামলা দিতে গেলে থানা পুলিশ আমার মামলা নেয়নি। দারোগা ইকবাল একটি সাদা কাগজে একটি অভিযোগ লিখিয়ে রেখে আমাকে বিদায় করে দেয়। পুলিশ লুট হওয়া মাছ উদ্ধারে বা অভিযুক্তদের গ্রেফতারের কোন উদ্যোগ নেয়নি।
ভূক্তভোগী মাছ চাষী জানান, গত ২০ বছরেরও বেশী সময় ধরে উপজেলার ধুরিয়াইল গ্রামের মৃত ইসমাইল সরদারের স্ত্রী, পূত্র, কন্যাদের কাছ থেকে আমি দীঘিটি লীজ নিয়ে দীঘিতে মাছ চাষ করে আসছি। সুনেছি দীঘির মালিকানা নিয়ে উত্তর চাঁদশী গ্রামের মৃত হালিম সরদারের ওয়ারিশদের সাথে বিরোধ রয়েছে। গত প্রায় ২০ বছরে তারা কেউ আমাকে মাছ চাঁষে বাঁধা দেয়নি। আর বিরোধ থাকলে তা নিয়ে তারা লীজ দাতাদের সাথে বোঝাপড়া করবে। আমিতো লীজ গ্রহীতা। আমার চাষকৃত মাছ তারা জোর পূর্বক লুট করে নিয়ে যাবে আর আমি আইনী সহয়তা পাবো না এটা কেমন কথা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশ থেকে কি আইন কানুন উঠে গেল।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইউনুস মিয়া বলেন, মামলাতো দারোগা নেবেনা। মামলা নেব আমি। ওনারা থানায় আসুক আমি আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করব।
মাছ লুট নয় নিজেদের দীঘিতে নিজেরা মাছ ধরেছি দাবি করে অভিযুক্ত মাসুম সরদার বলেন, মৃত হালিম সরদার আমার শশুর। দীঘির মালিকানা নিয়ে ইসমাইল সরদারের সাথে আমার শশুরের মামলা ছিল। ২০০৭ সালে হাইকোট থেকে আমরা রায় পাই। তারা সুপ্রীম কোর্টে আপিল করে। ২০০৯ সালে আমরা সুপ্রীম কোট থেকে রায় পাই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় ক্ষমতার দাপটে তারা আমাদেরকে দীঘির কাছে যেতে দেয়নি। এখন আমরা আমাদের দখল বুঝে নিয়েছি।