
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার ধামরাইয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে সনাতনধর্মী এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলার এজাহারনামীয় পলাতক প্রধান আসামি মো. ওয়াজেদ হাজীকে (৫০) কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের যৌথ আভিযানিক দল।
র্যাব-৪ ও র্যাব-১৫-এর সদস্যদের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজার সদর থানার কলাতলী ডলফিন মোড় সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ওয়াজেদ হাজী ধামরাই উপজেলার শরীফবাগ এলাকার মৃত ডাউরী বেপারীর ছেলে। তিনি হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, নিহত শংকর চন্দ্র মণ্ডল (২৮) পেশায় দিনমজুর ছিলেন। ধামরাইয়ের পশ্চিম কায়েতপাড়া এলাকায় সীমা সিনেমা হল সংলগ্ন একটি রাইস মিল থেকে বৈদ্যুতিক পানি তোলার মোটর চুরি হওয়ার ঘটনায় তাকে সন্দেহ করা হয়।
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট রাতে শংকর চন্দ্র মণ্ডলকে ওয়াজেদ হাজীর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ওয়াজেদ হাজী মোটা কাঠের লাঠি দিয়ে শংকরকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন। এ সময় অন্যান্য আসামিরাও লোহার রডসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শংকরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তাকে সেখানে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরবর্তীতে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৫ আগস্ট ভোরে শংকর চন্দ্র মণ্ডল মারা যান। খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে পলাতক প্রধান আসামি ওয়াজেদ হাজীকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে র্যাব।
র্যাবের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজারে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।