
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের টরর্কীচর বেদে পল্লীতে নারী ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও অগ্নি সংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় উভয় পক্ষের চারটি বসত বাড়ি ও আসবারপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি দোকান ঘর ও একটি রান্নাঘর অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় ৫ নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে এ অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বাদি হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেদে পল্লীর সরদার নাসির সরদারের মেয়ে সোনালী বেগমকে বেদে দিপু মিয়ার পুত্র নিলয় মিয়া সাত বছর পূর্বে বিবাহ করেন। বিয়ের পর থেকে নিলয়ের সাথে সোনালীর দাম্পত্য কলহ লেগে ছিলো।
নিলয় অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সোনালী পরকীয়ার কারণে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকতো। সম্প্রীতি তার স্ত্রী (সোনালী) পাঁচ বছরের একমাত্র পুত্র কারিমকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যায়। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের ধরে বুধবার সন্ধ্যায় ও রাতে তার শশুর নাসির সরদার ও তার লোকজন পৃথক ভাবে হামলা চালিয়ে তাদের রান্নাঘর ও দোকান ঘর অগ্নিসংযোগ করে। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও এলাবাসি আগুন নিয়ন্ত্রে আনে।
বেদে পল্লীর সরদার নাসির অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে আমার বেয়াই দিপু মিয়া ও জামাতা নিলয় মেয়েকে তাড়িয়ে দেয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দিপুর লোকজন আমার (নাসির) ও আমার বোন নাসরিনের ঘরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং আমাদের মারধর করে’।
দিপু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে নাসির সরদার ৪০ থেকে ৫০ জন লোকজন নিয়ে আমার ও আমার বড় ভাই ইত্তি মিয়ার বিল্ডিংয়ে হামলা চালিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে আসবার পত্র ও দরজা, জানলা ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাঁধা দিলে আমার ছোট ভাই (দিপু’র) চঞ্চল (৩২), বড় ভাই ইত্তি (৪৫), ভাতিজা আরিফ সরদার (৩৫), জিহাদ (১২), মিলি বেগম (২৬), মিঠু মিয়া (৫০), টুনি বেগম (২৭), লুৎফনর নেছাকে (৬৫) রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত চঞ্চল ও জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি’।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিক হাসান রাসেল বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতে ও আজ বৃহস্পতিবার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন হয়ে বাদি বুধবার রাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।