
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় একটি শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়কে ঘিরে ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের আড্ডা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক নেতা মো. ইউসুফ শেখের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, জামগড়া চৌরাস্তার ভূঁইয়া ন্যাশনাল প্লাজা-২-এর তৃতীয় তলায় গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের কার্যক্রম চলে আসছে। ইউসুফ শেখ ওই সংগঠনের আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ওই কার্যালয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির আনাগোনা বেড়ে যায়। তাদের দাবি, সেখানে কেউ অর্থের বিনিময়ে মাদক সংগ্রহ করেন, আবার কেউ কেউ কার্যালয়ে বসেই মাদক সেবন করেন। রাত পর্যন্ত সেখানে আড্ডা চলার অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে বাবুল নামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে মাদকাসক্ত অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া স্থানীয় আরও একজন ব্যক্তিকেও একই অবস্থায় দেখা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ের আড়ালে এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে আশপাশের পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ও যুব সমাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক নেতা বলেন, “প্রায় এক বছর ধরে ইউসুফের শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক কার্যক্রম তেমন দেখা যায় না। সংগঠনটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তার আয়ের উৎস কী—এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি সারাক্ষণ কার্যালয়ে অবস্থান করেন এবং সেখানে মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।”
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কথা বলা একজন শ্রমিক নেতার কার্যালয় যদি মাদক বিক্রি ও সেবনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শ্রমিক নেতা মো. ইউসুফ শেখ বলেন, “ভুল হয়ে গেছে। এই ধরনের কাজ আর করবো না।”
অভিযোগের বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “কেউ মাদক সেবন কিংবা মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”