
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজ্জাদ হোসেন শান্তকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার এসএ পরিবহনের গলিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।
আটক মো. ইকবাল হোসেন (২৬) রাজবাড়ীর পাংশা থানার পূর্ব বাগদুলী গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে। তিনি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চার লাখ টাকা জরিমানা করে এবং ভবনটি সিলগালা করে দেয়। পরে শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেওয়া হয়। সে সময় অবৈধ পণ্য ধ্বংস করে বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান শেষে ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, জব্দ করা পণ্যের অধিকাংশ ভারত থেকে আনা বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব পণ্যের গায়ে ‘Use for only India’ লেখা রয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পণ্যগুলো বাংলাদেশে আমদানি করা হয়নি।
ইউএনও আরও বলেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় পণ্য আমদানি না হলে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়, তেমনি এসব পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা যাচাইয়েরও সুযোগ থাকে না। এ কারণে পণ্যগুলো জব্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, অভিযানে আনুমানিক দুই কোটি টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজ্জাদ হোসেন শান্ত ঢাকার বাইরে রয়েছেন দাবি করায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা ম্যানেজারকে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্য আমদানি ও সংরক্ষণের অভিযোগে আটক কর্মীর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানকালে ‘আফনা’ নামের একটি ট্রেড লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়। ওই লাইসেন্সে ফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবসার উল্লেখ থাকলেও জব্দ করা পণ্যের সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে ট্রেড লাইসেন্সটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।
অভিযান শেষে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মালামাল দুটি ট্রাকে করে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়।