
সম্প্রতি দেশের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সেলিম খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী থাকাকালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তী কর্মজীবনেও আওয়ামী লীগের অনুরাগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, তেজগাঁও ভূমি অফিসে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তাকে প্রথমে ওএসডি এবং পরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। ওই সময় ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই মির্জা ফয়সাল—এমন দাবিও করা হয়েছে ওই বক্তব্যে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের শিবরামপুরে সেলিম খানের গ্রামের বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বাড়িটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছবি ও মুরাল থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন অভিযোগে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে পড়া একজন কর্মকর্তা পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে কীভাবে দায়িত্ব পেলেন।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আগের শাস্তিমূলক পদক্ষেপকে ভিত্তি করে নিজেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বঞ্চিত কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে ঘুষের বিনিময়ে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে লিখিত বক্তব্যে কোনো নথি বা নির্দিষ্ট প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেলিম খান (জুয়েল)-এর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
[অভিযোগগুলোর বিষয়ে সেলিম খান (জুয়েল)-এর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।]
তথ্য সংগ্রহ : গাজী কামরুল ইসলাম সজল এর ফেইসবুক পেইজ থেকে সংগ্রহ করা।