
মোঃ শফিকুল ইসলাম,গৌরনদী (বরিশাল)
বরিশালের গৌরনদীতে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনব্যাপী তিনটি পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গৌরনদী উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে সকাল সাড়ে ৯টায় গৌরনদী উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কুতুবপুর স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গৌরনদী উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম হাওলাদার। এ সময় খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয় এবং পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানানো হয়।
এরপর বেলা ১১টায় গৌরনদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে এ মেলা।
বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদেরও পরিবেশ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
উদ্বোধন শেষে তিনি গৌরনদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে একটি বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন সংরক্ষক (কোস্টাল সার্কেল, বরিশাল) ড. মোল্যা রেজাউল করিম।
পরে দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-২০২৬-এর অর্থায়নে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। একই অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচিতে জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তি শিক্ষার পাশাপাশি মাঠমুখী হতে হবে। নিয়মিত খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়, আর বৃক্ষরোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে দক্ষ, সুস্থ ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা তুলে দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিভাষ কুমার দাস এবং বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ আবুল হোসেন মিয়া, সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, জেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম কাজল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শরীফ শফিকুর রহমান স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খোকন, গণঅধিকার পরিষদের গৌরনদী উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম হাওলাদার, সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. অলি উল্লাহ, যুবনেতা মো. রিয়াজ ভূইয়া, জসিম শরীফ, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম মাহতাব, মহিলা দলের নেত্রী তানিয়া মাহমুদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রুবেল গমস্তা, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবুজায়ন বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব ও সুস্থ জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করাই এ ধারাবাহিক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।