1. admin@ajkerpratidin.com : admin : Khokon Howlader
  2. khokon28.bd@gmail.com : খোকন হাওলাদার : খোকন হাওলাদার
  3. sardermasud348@gmail.com : Sarder Masud : Sarder Masud
  4. news.ajkerpratidin@gmail.com : Sohag Ahammad : Sohag Ahammad
  5. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গৌরনদী আল আমিন টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তিনবার ‘বিনা ভোটে’ নির্বাচন, নিয়ম ভেঙে কানাডা সফরের অভিযোগ নলচিড়ার চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজের বিরুদ্ধে তারেক রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমর্থনে ছাত্রদলের শোভাযাত্রা জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে রাণীশংকৈলের নারী ফুটবলারদের স্বপ্নে নতুন জার্সি ও বল গৌরনদীতে ভুয়া সার্জন গ্রেপ্তার, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ঘিরে নানা প্রশ্ন গৌরনদীতে এসিল্যান্ড মেহেদী হাসানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: বদলে গেছে ভূমি অফিসের চিত্র মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের খবরে ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস আশুলিয়ায় কাউ বয় ফুডসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা আশুলিয়ায় অটোভ্যান চালককে গলা কেটে হত্যা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২ কয়রায় স্বাস্থ্যসেবার মান দেখতে হাসপাতালে এমপি আবুল কালাম আজাদ

গৌরনদী আল আমিন টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

গৌরনদী প্রতিনিধিঃ
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আল আমিন টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অধ্যক্ষের অপকর্মের প্রতিবাদ করলে সহকর্মিদের সাথে দুর্ব্যাবহার ও কমিটির সিদ্বান্ত ছাড়াই নিজে একক সিদ্বান্তে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত দুই বছরে ম্যানেজিং কমিটির কোন সভা করেননি বলে কমিটির একাধিক সদস্যরা জানান।

শিক্ষক, কর্মচারী, কমিটির সদস্যসগহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিস্তার অভযোগ রয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী নিয়মিত কলেজে না এসে হাজিরা থাকায় স্বাক্ষর করেন। তারা দুজনে অনুপুস্থিত থেকে টিকাসার নুরানি ক্যাডেট মাদ্রাসা প্রফেসর হাউস নামে মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। সরকারি বিধি বিধান অমান্য করে নিজের ইচ্ছা মাফিক কলেজ ছুটি ঘোষনা করেন। তার স্ত্রী প্রতি মাসে ১৫ দিন ছুটিতে থাকেন। এসব বিষয়ে সহকারী শিক্ষকরা কথা বললে তাদেরকে চাকুরীচ্যুত করার হুমকি দিয়ে ভয় ভীতি দেখান। কলেজের আর্থিক হিসাব নিকাশ কমিটিতে উপস্থাপন না করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কলেজের যাবতীয় ফাইল পত্র, বিল ভাউজার কলেজে সংরক্ষন না করে নিজ হেফাজতে বাড়িতে রাখেন।

কলেজের ব্যাংক একাউন্ট থেকে অধ্যক্ষ ইখতিয়ার ও সভাপতি মোসলেম উদ্দিন সিকদার ট্রাষ্টের নামে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেন। ওই দূর্নীতি ঢাকতে অধ্যক্ষ ইখতিয়ার উত্তোলনকৃত টাকা সকল শিক্ষকদের মাঝে বন্টনের বিল ভাউজার তৈরী করেন। ফলে দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে কলেজের শিক্ষকরা সম্মিলিত সিদ্বান্ত নিয়ে প্রভাষক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বাদি হয়ে অধ্যক্ষ ইখতিয়ারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তিতে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইখতিয়ারের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ২০২১ সালে বরখাস্ত করেন। এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তদারকির ক্ষমতা ইউএনওর কাছে থাকলে অধ্যক্ষ ইখতিয়ার উদ্দিন ইউএনওকে উকিল নোটিশ দিয়ে ধৃষ্টতা দেখান। ২০১৮ সালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উমাশিঅ গৌর-২০১৮/৯২ স্বারকে অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে অর্থ আত্মসাতের প্রমান পান। ছাত্র আন্দোলনের পরে ২০২৪ সালে ২১ আগষ্ট তাকে পূর্ন বহাল করা হয়। অথচ সে ৬ আগষ্ট থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। ট্রাষ্টের সভাপতি মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিকদার ২০২৫ সালে ট্রাষ্ট থেকে বহিস্কুত হলেও আইনের তোয়াক্কা না করে অধ্যক্ষ নিরাপদে তার অপকর্ম চালাতে তাকেই ট্রাষ্টের সভাপতি পরিচয় দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। পেশাদারিত্বে অদক্ষ হওয়া সত্বেও অধ্যক্ষ তার স্ত্রীকে উচ্চতর বেতন গ্রেডে চাকুরী প্রদান করেন। স্ত্রী শামছুন নাহার কলেজে নিয়মিত না এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করেন। হাজিরা খাতায় দেখা যায়, নৈমিত্তিক ছুটি বছরে ২০টি হওয়া সত্বেও শামছুন নাহার বছরে ৭০ থেকে ৭৫ দিন ছুটি ভোট করেন। কলেজে অনুপুস্থিত থেকে স্বামী স্ত্রী দুজনে টিকাসার নুরানি ক্যাডেট মাদ্রাসা প্রফেসর হাউস নামে একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। ২০২৫ ও চলতি বছরে ২০২৬ সালে এইচএসসি পাবলিক পরীক্ষায় কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন না করেও নিজের ইচ্ছা মাফিক ছুটির তালিকা না মেনে এক মাস ধরে কলেজ বন্ধ রাখেন।

২১ সাল থেকে ২৪ সাল কলেজে অনুপুস্থিত থাকা সত্বেও ট্রাষ্ট ও কমিটির অনুমতি ছাড়া ৫ বছরের বেতনভাতা উত্তোলন করেন। বেতন বহিতে দেখা যায়, জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৪ সালে এক বছরে ৬ লক্ষ ছাপান্ন হাজার ৭শত ৪৮ টাকা তুলে নেন। এভাবে ৫ বছর বেতন তুলে নেন অধ্যক্ষ । কলেজের আয় ব্যায়ের হিসাব অফিস সহকারীর রাখার কথা থাকলেও তাকে দিয়ে দায়িত্ব পালন না করিয়ে কলেজের অর্থ নিজের ইচ্ছমত খরচ করেন। ভূয়া বিল ভাউচার তৈরী করে তা বাসায় নিয়ে যায়। অধ্যক্ষ ইখতিয়ার কলেজে যোগদান করার পর থেকে ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করে ১৫ শত টাকা দেনা রেখে বহিস্কৃত হন। অথচ বহিস্কৃত হওয়ার পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মোয়াজ্জে হোসেন ২১ থেকে ২৪ সাল চার বছর দায়িত্ব পালন করে কলেজ তহবিলে ১৪ লক্ষ টাকা জমা করেন। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা খরচ বাদে ওই টাকা জমা হয়। ওই ১৪ লক্ষ টাকা কলেজের অবৈধ সভাপতি মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিকদারের যোগ সাজসে অধ্যক্ষ আত্মসাতের পায়তারা করেন বলে কলেজের একটি সূত্র জানান।

কলেজের সকল শিক্ষকগন অভিযোগ করে বলেন, কলেজের টিউশন ফি নিয়ম অনুযায়ি শিক্ষকদের প্রাপ্য কিন্তু শিক্ষকদের ওই টাকা না দিয়ে অধ্যক্ষ ইখতিয়ার একাই ভোগ করেন। বছরে কত টাকা টিউশন ফি আসে শিক্ষকরা তা আবগত নন। শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেট পাওয়ার সময় হওয়া সত্বে তা না দিয়ে শিক্ষকদের কাছে অর্থ দাবি করেন। শিক্ষকরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের লাঞ্চিত করে অধ্যক্ষ। ভূক্তভোগী দুই শিক্ষক অভিযোগ করেন, ২০০৬ সালে কলেজে রোকসানা জেরিন ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজন শিক্ষককে মোটা অংক নিয়ে অধ্যক্ষ চাকুরীতে নিয়োগ দেন। পরবর্তিতে তার দূর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে ষরযন্ত্র করে দুজনকে চাকুরীচ্যুত করেন। ওই দুই শিক্ষক এমপিও ভূক্ত হন এবং ব্যাংকে বেতন জমা হয় কিন্তু তিনি তা গোপন রেখে দুই শিক্ষকের এমপিও বাতিল করেন। প্রভাষক রাশিদা খানম (উঃউঃ) অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিধি মোতাবেক চিকিৎসা ছুটির জন্য বিদেশে গমন করে চিকিৎসা শেষে কাজে যোগদান করেন। ওই শিক্ষকের ইএফটিতে বেতন ভাতা জমা হওয়া সত্বেও কমিটির অনুমোদন ছাড়া অধ্যক্ষ ইখতিয়ার একার সিদ্বান্তে সোনালী ব্যাকে চিঠি দিয়ে প্রভাষকের ব্যক্তিগত একাউন্ট বন্ধ করে রাখেন। ওই শিক্ষক বেতন তুলতে না পেরে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেছে। কলেজের শিক্ষার্থী দিন দিন কমে যাচ্ছে এবং কলেজের অভ্যন্তরীন অবকাঠামো প্রায় ভঙ্গুর অবস্থা সেদিকে কোন নজর না দিয়ে নিজের ধান্ধা চরিতার্থ করতে অধ্যক্ষ সদা ব্যস্থ থাকেন। উলেখ্য অধ্যক্ষ ইখতিয়ার উদ্দিন ইতোমধ্যে দূর্নীতির দায়ে গৌরনদী গালর্স স্কুল এ্যান্ড কলেজ, কয়ারিয়া এসপিএস কলেজ থেকে চাকুরীচ্যুত হন। অধ্যক্ষ মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিনের অনিয়ম দূর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, কর্মচারী ও কমিটির সদস্যরা। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, অভিযোগের কোন সত্যতা নাই। আমি এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিধি বিধান মেনেই কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান ©২০১৮-২০২৬ ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Design BY POPULAR HOST BD